Home / Bangla / ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্টঃ ইনস্ট্যান্ট তিন তালাক ও ইশরাত জাহান

ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্টঃ ইনস্ট্যান্ট তিন তালাক ও ইশরাত জাহান

মুহাম্মদ জিম নওয়াজ,এমএন বাংলা: ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্টঃ ইনস্ট্যান্ট তিন তালাক ও ইশরাত জাহান (প্রথম অংশ)-
জানি, বিষয়টি শুধুমাত্র বাংলা নয়, ভারতবর্ষ অতিক্রম করে আন্তর্জাতিকভাবে প্রচারের আলোয় এসেছে। আমি এও জানি, এবিষয়ে আলটপকা কথা লিখলে কিংবা বানোয়াট তথ্যপ্রমাণের উল্লেখ করলে আমার বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে। তাই, ঘটনা পরম্পরায় উল্লেখিত তথ্যপ্রমাণগুলি আমি নিজেই যাচাই করেছি। তথ্যপ্রমাণ হিসেবে রয়েছে- হাওড়া কোর্টের রায়ের কপি, চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির নির্দেশ কপি, অডিও, ভিডিও, ফোন রেকর্ডিং, মৌখিক বয়ান এবং কিছু চিঠিপত্র। তথ্যপ্রমাণ সম্বলিত লেখাটির আইনি দিকগুলি খতিয়ে দেখেছেন কোলকাতা হাইকোর্টের এক বিশিষ্ট আইনজীবী। এবং লেখটি প্রকাশের জন্য তাঁর থেকে অনুমোদনও নিয়েছি।
আরেকটি বিষয়, লেখাটির মধ্যে কোথাও ব্যক্তি আক্রমণের প্রচেষ্টা করিনি। আমি বিশ্বাস করি, ব্যক্তি আক্রমণ তথ্যপ্রমাণ এবং যুক্তিকে দুর্বল করে দেয়। যেহেতু বিষয়ের মূলে রয়েছে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, তাই প্রয়োজনের তাগিদে স্বাভাবিকভাবেই কিছু ব্যক্তিগত বিষয় আলোচনা করেছি। অবশ্যই ব্যক্তি কুৎসার জন্য নয়, বিষয়টি ঠিকঠাক বুঝে নেওয়ার জন্য।

ইশরাত জাহান বিজেপিতে যুক্ত হয়েছেন, খবরটি আগের রাতেই নিউজ চ্যানেলের মাধ্যমে শুনেছিলাম। পরেরদিন সকালে সর্বভারতীয় ইংরেজি পত্রিকা দ্য হিন্দুতে খবরটি পড়ার সময় শেষ অনুচ্ছেদে বাংলা বিজেপি নেত্রী লকেট চ্যাটার্জীর বক্তব্যে চোখে আটকে যায়।
“We have been collaborating with her and providing her legal assistance in her battle against triple talaq for a long time. It would be wrong to assume that her move join BJP was a sudden decision”
অর্থাৎ “তিন তালাকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরেই তাকে আইনি সাহায্য করে আসছিলাম। তিনি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হঠাৎ করে নিয়েছেন এমন ভাবাটা ভুল।“
বিজেপি দীর্ঘদিন ধরেই ইশরাত জাহানকে আইনি সাহায্য করে আসছে! ইশরাত জাহান দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির আশ্রয়ে রয়েছেন! হতচকিত হলাম এবং ফিরে গেলাম ফ্ল্যাশব্যাকে।

গতবছর অর্থাৎ ২০১৭ সালের ২২শে আগস্ট ভারতের সুপ্রিমকোর্টের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চের ৩:২ রায়ে, তালাক ই বিদ্দাত অর্থাৎ ইনস্ট্যান্ট তিন তালাক অবৈধ ঘোষিত হওয়ার সাথেসাথেই সংবাদমাধ্যম এবং বিজেপি নেতানেত্রীরা আনন্দে উৎসবে ফেটে পড়েন। রায় প্রকাশের দুএকদিন পরেই একটি রাজনৈতিক দলের রাজ্যস্তরের নেতা আমায় ফোন করে জানান, ইশরাত জাহানকে নানানভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ইশরাত জাহান আর্থিক সমস্যায় ভুগছেন। উল্লেখ্য, সেই নেতা আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ইশরাতকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, একথা শোনার পরে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হই। বিভিন্ন মুসলিম সংগঠনের নেতানেত্রীদের ফোন করে ইশরাত জাহানের পাশে দাঁড়ানোর আবেদন জানাই। এমনকি, বিষয়টি নিয়ে নিজের পরিবারের সাথেও বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ি। দাদা এবং আম্মাজীর বক্তব্য ছিল, মুসলিম নেতারা ইশরাত জাহানের পাশে থাকেননি এটা অন্যায়। কিন্তু তিনি কি মুসলিম নেতাদের কাছে গিয়েছিলেন?
সেসময়ে মুসলিম নেতা থেকে শুরু করে নিজের পরিবারের সদস্যের বক্তব্যগুলি আমার কাছে নেহাতই অজুহাত ছাড়া আর অন্যকিছু মনে হয়নি। এরপর, ইশরাত জাহানের ফোন নম্বর জোগাড় করে আমি নিজেই তাঁর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করি। জানাই, সামাজিক এবং আর্থিকভাবে তাঁর পাশে থাকতে চাই। কিন্তু তিনি আমার সাথে কথা বলতে রাজি হননি। তাঁর আইনজীবী নাজিয়া ইলাহী খান- এঁর সাথে কথা বলতে বলা হয়। যোগাযোগ করে উঠতে পারিনি। বেগতিক দেখে, নারী ও আদিবাসীদের আর্থসামাজিক আন্দোনলের সাথে যুক্ত এক আপার সাথে কথা বলি এবং ইশরাত জাহানের সাথে যোগাযোগ করে দেওয়ার অনুরোধ করি। তিনিও ব্যর্থ হন। এরপর আমি নিজেও চুপ করে যাই। তারপর সাম্প্রতিক দ্য হিন্দু পত্রিকায় লকেট চ্যাটার্জীর বিবৃতি এবং সেই বিবৃতির পরিপ্রেক্ষিতে শুরু হয় আমার ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং।

হাওড়ার মেয়ে ইশরাত জাহানঃ
ইনস্ট্যান্ট তিন তালাক নিয়ে সুপ্রিমকোর্টের রায়ের সময় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হয়, ইনস্ট্যান্ট তিন তালাক মামলায় যে পাঁচজন পিটিশনার ছিলেন তাঁদের অন্যতম আমাদের বাংলা তথা হাওড়ার মেয়ে ইশরাত জাহান। শোনার পরে বেশ আনন্দই হয়েছিল। বাহ, আমাদের বাংলার মেয়েও রয়েছেন যিনি এমন একটি ঐতিহাসিক লড়াইয়ের সেনাপতি! কিন্তু ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং-এর পরে আমার সেই আনন্দ একেবারেই বিলীন হয়ে যায়। ইশরাত জাহান বাংলা লিখতে, পড়তে, বলতে, এমনকি বুঝতেও পারেন না। বাংলার মেয়ের পক্ষে এটা কীভাবে সম্ভব! সত্যি কথা বলতে, ইশরাত বাংলার মেয়েই নয়। ইশরাতের বাবার বাড়ি বিহারের নওদা জেলার পকরী বরাওয়া গ্রামে। বাবা মোহাঃ হাসিব পেশায় দর্জি। তিনি সেখানেই পড়াশুনা করেন এবং বিহার বোর্ড থেকে মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হন। মাধ্যমিক পাশের পরে ২০০১ সালে ইশরাতের বিয়ে হয় বিহারের অরঙ্গাবাদ জেলার ইটাওয়া নিবাসী মোহাঃ মোর্তজা আনসারীর সাথে। ইশরাতের স্বামী মোর্তজাও বিহার বোর্ড থেকেই মাধ্যমিক পাশ করেন। অর্থাৎ বাবা এবং শ্বশুরবাড়ি- কোনোদিক থেকেই ইশরাত বাংলার নয়, বিহারের মেয়ে। এখন প্রশ্ন হল, তথ্য গোপন করে ইশরাতকে বাংলার মেয়ে ব’লে ব্যাপক প্রচারের পেছনে সংবাদমাধ্যমের আসল উদ্দেশ্য কি? ইশরাতের সপক্ষে বাঙালি জাতীয়তাবোধ চাগিয়ে তোলা!

ইশরাত জাহানের হাওড়ায় আগমনঃ
২০০১ সালে বিয়ের পরে ইশরাত শ্বশুর বাড়িতে স্বামীর সাথে সংসার শুরু করেন। একসাথে ছয়মাস থাকার পরে রোজগারের তাগিদে স্বামী মোর্তজা তাঁর স্ত্রী ইশরাতকে মায়ের কাছে রেখে পুনরায় দুবাই পাড়ি দেন। ২০০৩ সালে ইশরাত জাহানের শাশুড়ি হার্ট অ্যাটাকে মারা যান। এরপর মোর্তজা তাঁর গর্ভবতী স্ত্রীকে হাওড়ার লিলুয়ার ফ্ল্যাটে দাদা-ভাবীর কাছে রেখে দুবাই পাড়ি দেন। উল্লেখ্য, মোর্তজা আনসারীর দাদা মোস্তফা আনসারী পেশায় প্রাইমারী স্কুল শিক্ষক। ফ্ল্যাটটি দুই ভাইয়ের নামেই রয়েছে।

ইশরাত জাহানের হাওড়া-বিহারঃ
ভাসুরের সংসারে থাকার কিছুদিন পর থেকেই ইশরাত জাহানের সাথে তার জা-এর সাংসারিক ঝামেলা শুরু হয়। সাংসারিক সমস্যার জন্য ইশরাত এবং মোর্তজা প্রায় দীর্ঘ সাতবছর মোস্তফা ও তার স্ত্রীর সাথে কথা বন্ধ করে দেন। এরপর থেকে বেশিরভাগ সময়েই ইশরাত থাকতেন বিহারে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে। যখন যখন মোর্তজা দুবাই থেকে ফিরতেন, তখন তখন কিছুদিন হাওড়ায় স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন। দুবাই যাওয়ার সময় আবার স্ত্রীকে বিহারে রেখে চলে যেতেন। অর্থাৎ দাম্পত্য জীবনের আগে পুরোটাই এবং পরে বেশিরভাগ সময় ইশরাত বিহারে থেকেছেন। তবে, ২০১৩ সাল থেকে ইশরাত বাচ্চাদের গ্রামের বাড়িতে রেখে মাঝেমাঝেই হাওড়ায় এসে থাকতেন।

ইশরাত জাহানের সাথে স্বামী মোর্তজার ঝামেলাঃ
ইশরাতের সাথে তাঁর স্বামীর ঝামেলা শুরু হয় মূলত ২০১৩ সাল থেকে। ঝামেলার কারণ, ইশরাত হাওড়ার ফ্ল্যাটে থাকতে চেয়েছিলেন। কিন্তু স্বামী বলেছিলেন, বিহারে গ্রামের বাড়িতে থাকতে। প্রশ্ন হল, স্বামী তো থাকেন দুবাইতে। ইচ্ছানুসারে ইশরাত যদি হাওড়াতেই থাকেন তাহলে সমস্যা কোথায়? ইশরাতের স্বামী মোর্তজার বক্তব্য অনুযায়ী, “কয়েকজনের থেকে খবর পাই, হাওড়ায় থাকাকালীন ইশরাত বাচ্চাদের বাড়িতে রেখে সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাতে ফিরতেন। অনেক সময় বাড়ি ফিরতে রাত বারোটা বেজে যেতো।“ এরপর মোর্তজা অভিযোগ করেন, “ সময়টা ২০১৪ সাল। একদিন দুবাই থেকে দুপুরবেলা ফোন করেছিলাম। পাশ থেকে একজন ব্যক্তিকে চাপা সুরে বলতে শুনি, কোন ফোন কিয়া রে? ইশরাত চাপা গলায় উত্তর দেয়, পাগলা ফোন কিয়া। একথা শুনে আমি অল্প জামাকাপড় নিয়ে চড়া দামে এয়ারপোর্ট থেকে টিকিট কিনে সরাসরি কোলকাতায় ফিরে আসি। ফিরেই ঝামেলা শুরু হয়। স্ত্রীর সাথে ঝামেলা হাতাহাতির পর্যায়ে পৌঁছে যায়। বাচ্চাদের নিয়ে চলে যাই বিহারে গ্রামের বাড়িতে। এনিয়ে ইশরাত আমার বিরুদ্ধে হাওড়ার গোলাবাড়ি থানায় আইপিসি 498(A)তে এফ আই আর করে। কেস নম্বর- ১০৮৫/২০১৪, তারিখ ২৪/১০/২০১৪। অবশ্য একমাস পরে অর্থাৎ ২৪/১১/২০১৪তে ইশরাত নিজেই হাওড়াকোর্ট থেকে আমার জামিন করিয়ে নেয়। বাচ্চাদের নিয়ে আমি আবার হাওড়ার ফ্ল্যাটে ফিরে আসি। কোর্টের আদেশ অনুসারে আমরা আবার হাওড়ার ফ্ল্যাটে একসাথে থাকতে শুরু করি।“ বলে রাখা ভালো, কেস এবং জামিনের সমস্ত কপিই আমার কাছে রয়েছে।

ইশরাত জাহানের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কঃ
মোর্তজা আনসারী অভিযোগ করেন, “জামিনের কয়েকদিন পরেই ০৩/১২/২০১৪ তারিখে ইশরাত একটি চিঠি লিখে বাচ্চাদের বাড়িতে রেখে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যান।“ উল্লেখ্য, তিন পাতার চিঠির কপিটি আমার কাছে রয়েছে। চিঠিটি ইশরাতেরই লেখা কিনা তা যাচাই করার জন্য আমি ইশরাতের একাধিক লেখাপত্র জোগাড় করি। এবং নিশ্চিত হই, চিঠিটি ইশরাতেরই লেখা। ০৪/১২/২০১৪ তারিখে হাওড়ার গোলাবাড়ি থানায় মোর্তজা একটি নিখোঁজ ডায়েরী করেন। সেই ডায়েরীর কপিটিও সংগ্রহ করেছি। অবশ্য নিখোঁজের দুদিন পরেই এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ইশরাতকে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়। চিঠিটিতে ইশরাত বলেন,” আমি তোমার সাথে আর প্রতারণা করতে পারবো না। বাড়ি ছেড়ে চলে গেলাম। তুমি তালাকনামা তৈরি রেখো। আমি সময় করে নিয়ে যাবো।“
মোর্তজা দাবী করেছেন, “আমার স্ত্রীর সাথে তার গ্রামেরই আফজাল ওরফে রাজু নামের একটি ছেলের সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এখবরটি আমি বাচ্চাদের থেকে জানতে পারি। বাচ্চারা আমায় জানায়, বিভিন্ন সময়ে মা এবং রাজুমামা ঘুরতে বেরিয়ে যেত।“ মোর্তজা আনসারী অভিযোগ করেছেন, ২০০৯ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত ইশরাত চারবারেরও বেশি ছোটবেলার প্রেমিক আফজাল ওরফে রাজুর সাথে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন।

রামপুরহাটে ইশরাত জাহানঃ
মোর্তজা দাবী করেছেন, ২০১৩-১৪সালে ইশরাত জাহান তার বাচ্চাদের নিয়ে রাজুর সাথে বীরভূম জেলার রামপুরহাট গিয়েছিলেন এবং একমাসেরও বেশি একসাথে ছিলেন। রামপুরহাটে তিনি অমরজিত দে নামক এক ব্যক্তির শ্বশুরবাড়িতে ছিলেন। এই তথ্যটি যাচাই করার জন্য আমি অমরজিতবাবুর সাথে যোগাযোগ করি। তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমার স্ত্রীর ক্যান্সার হয়েছিল। চিকিৎসা করাতে কোলকাতা গিয়েছিলাম। সেই সূত্রে আমার সাথে ইশরাত জাহানের পরিচয়। কোলকাতা গেলে আমরা ইশরাতের ফ্ল্যাটেই থাকতাম, খেতাম। আমাদের মধ্যে গভীর আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে।“ ইশরাতের সাথে আফজালের রামপুরহাটে একসাথে থাকার প্রসঙ্গে বলেন, “ ইশরাত আফজালকে নিজের ভাই পরিচয় দিয়ে এখানে তিনি ছিলেন।“ এছাড়া রামপুরহাটের আরও দুজনের থেকে ঘটনার সত্যতা যাচাই করেছি। (চলবে)

*ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং-এর দ্বিতীয় ও শেষ অংশটি প্রকাশ করবো আগামীকাল সকাল ১১টার সময়। দ্বিতীয় অংশে বেশকিছু চাঞ্চল্যকর তথ্যপ্রমাণ থাকবে, যা সংবাদমাধ্যম প্রচারিত সমস্ত তত্ত্ব ও তথ্যকে ভেঙ্গে চুরমার করে দেবে বলেই আমার বিশ্বাস। একান্ত অনুরোধ, লেখাটি শেয়ার করবেন না। ইচ্ছে হলে নিজের ওয়ালে কপি-পেস্ট করুন।

(মুহাম্মদ জিম নওয়াজ এর ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*